Sunday, April 12, 2015

হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার


হযরত শাহজালাল(র:) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি। সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে। সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বুরহান উদ্দিনের ওপর রাজা গৌর গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল(র:) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ কারণে সিলেটকে  ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। কেউ কেউ সিলেটকে পূণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন।
আরবের মাটি ও সিলেটের মাটির মিল

কথিত আছে, প্রাচ্য দেশে আসার পূর্বে শাহজালাল(র:) এর মামা মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবীর (রঃ) তাকে এক মুঠো মাটি দিয়ে বলেন, ‘স্বাদে বর্ণে গন্ধে এই মাটির মতো মাটি যেখানে পাবে সেখানে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করবে।’ 

হযরত শাহজালাল(র:) বিশিষ্ট শিষ্য শেখ আলীকে এই মাটির দায়িত্বে নিয়োগ করেন এবং নির্দেশ দেন যে, যাত্রা পথে বিভিন্ন জনপদের মাটির সাথে যেন এই জনপদের মাটির তুলনা করে তিনি দেখেন। পরে এই শিষ্যের উপাধি হয় চাষণী পীর। সিলেট শহরের গোয়াইপাড়ায় তার মাজার বিদ্যমান।

সিলেটের মাটির সাথে আরবের মাটির মিল পাওয়ায় হযরত শাহজালাল(র:) সিলেটে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। সিলেটে তেল ও গ্যাস পাওয়ায় আরবের মাটি ও সিলেটের  মাটির মিল প্রমাণিত হয়েছে।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

সিলেট রেল স্টেশন অথবা কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এ নেমে রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশাযোগে মাজারে যাওয়া যায়। রিকশা ভাড়া ২০-২৫ টাকা, সিএনজি ভাড়া ৮০-১০০ টাকা।সুরমা নদী পার হয়ে মূল শহরে এসে মাজার এ পৌছাতে হয়। মাজার গেট রোড এ অনেকগুলো আবাসিক হোটেল রয়েছে। 
তথ্যসূত্র : জেলা তথ্যবাতায়ন

মালনীছড়া চা বাগান


চা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়। সকালে এক কাপ গরম চা না পেলে বাঙালী সমাজের যেন একদম চলে না। বাংলাদেশের যে কয়টি অঞ্চলে চা বাগান পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে সিলেট অন্যতম। সিলেটের চায়ের রঙ, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান সিলেট শহরে অবস্থিত। নাম মালনীছড়া। ১৮৪৯ সালে এই চা বাগান প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে বেসরকারী তত্ত্ত্বাবধানে চা বাগান পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৫০০ একর জায়গার উপর এই চা বাগান অবস্থিত।চা বাগানের পাশাপাশি বর্তমানে এখানে কমলা ও রাবারের চাষ করা হয়।

মালনীছড়া চা বাগান ছাড়াও সিলেটে  লাক্ষাতুড়া চা বাগান, আলী বাহার চা বাগান, খাদিম, আহমদ টি স্টেট, লালাখাল টি স্টেট উল্লেখযোগ্য।

অবস্থান: মালনীছড়া এবং লাক্ষাতুড়া চা বাগান দুইটিই সিলেট শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত। শহরের কেন্দ্রস্থল জিন্দাবাজার পয়েন্ট হতে গাড়ীতে মাত্র ১৫ মিনিটের পথ।

কি কি দেখবেন: পাহাড়ের গায়ে চা বাগানের দৃশ্য, ছায়া বৃক্ষ, চা শ্রমিকদের আবাসস্থল, কমলার বাগান, রাবার বাগান, চা তৈরীর প্রক্রিয়া।

কোথায় অবস্থান করবেন: সাধারনত চা বাগানে থাকার তেমন কোন সুব্যবস্থা নাই। আপনাকে সিলেট শহরেই থাকতে হবে।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

সিলেট শহর থেকে রিকশাযোগে অথবা অটোরিকশা বা গাড়িতে বিমানবন্দর রোডে চাবাগানটি পাওয়া যাবে। গাড়িতে যেতে আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে ১০ মিনিট এর পথ।রিকশাযোগে যেতে আধঘন্টা লাগবে।তথ্যসূত্র : জেলা তথ্যবাতায়ন 
   

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী



রাজশাহী ও ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে সুপারী আর নারিকেল গাছে ঘেরা সুবিশাল এলাকায় মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে মন্দিরের এক শহর যার নাম পুঠিয়া। পুঠিয়া রাজবাড়ীর বিশাল চত্বরকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন স্থাপনা যা সহজেই আপনার নজর কাড়তে সক্ষম হবে। প্রাচীন এই স্থাপনা গুলির মধ্যে রয়েছে মন্দির. রাজবাড়ী, রাজবাড়ীকে চার দিক থেকে ঘিরে রাখা পুকুর-দিঘি সহ নানান স্থাপনা।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক থেকে রিক্সা অথবা ভ্যান ধরে কিছুটা পথ সামনে গেলেই বিশাল একটা চুঁড়া জানান দিবে মন্দিরের অবস্থান। রাজবাড়ীর প্রবেশ পথে পুকুরের পাড়ে নিশ্চুপ দাড়িয়ে থাকা এ মন্দিরটির নাম শিব মন্দির। মহারাণী ভুবন মোহনী দেবী ১৮২৩ সালে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরিসংখ্যান মতে এটিই এশিয়ার সবচেয়ে বড় শিব মন্দির। সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরের দোতলায় উঠলেই দেখা যাবে এর চার পাশের বারান্দা এবং একটি মাত্র কক্ষ যা দুই স্তর বিশিষ্ঠ বারান্দাকে ঘিরে রেখেছে। মন্দিরের মূল কক্ষের অভ্যন্তরে রয়েছে কষ্ঠি পাথরের বিশাল এক শিব লিঙ্গ। সমগ্র মন্দিরের দেয়ালে পৌরাণিক কাহিনী চিত্র খচিত আছে। শিব মন্দিরের কোল ঘেঁষে লাগানো পূর্ব পাশে গোল গুম্বুজ আকৃতির আরেকটি ছোট মন্দির আছে। শিব মন্দির পেরিয়ে দক্ষিণ দিকে গেলেই চোখে পড়বে চার তলা বিশিষ্ঠ আরেকট্ িমন্দির যার নাম দোল মন্দির। চার পাশে প্রায় ১০০০ টি দরজা সম্বলিত এই মন্দিরটি স্থানীয় লোকজনের কাছে হাজার দুয়ারী ঘর নামে পরিচিত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে রাণী হেমন্ত কুমারী দেবী এ মন্দিরটি নির্মাণ করেন। দোল মন্দিরের সামনে ঘাসে ঢাকা বিশাল মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে দাড়িয়ে আছে পুঠিয়ার ঐতিহাসিক রাজবাড়ী।

রাণী হেমন্ত কুমারী দেবী তাঁর শাশুড়ি মহারাণী শরৎসুন্দরী দেবীর সম্মানার্থে ১৮৯৫ সালে নির্মাণ করেন বিশাল আকৃতির বিখ্যাত এই রাজবাড়ী। পুঠিয়ার এই রাজবাড়ীটি বর্তমানে লস্করপুর মহাবিদ্যা নিকেতনের একাডেমিক ভবন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজবাড়ীর পূর্ব পাশে রাজরাণীর গোসল করার জন্য পুকুরের কোল ঘেঁসে তৈরী করা হয়েছিল সান বাঁধানো রাণী ঘাট যার অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান। পুঠিয়া রাজবাড়ীর ভেতরে পোড়ামাটির অলঙ্করণে সমৃদ্ধ একটি মন্দির আছে যার নাম গোবিন্দ মন্দির। বর্গাকারে নির্মিত এই মন্দিরটির চার পাশে চারটি বর্গাকার কক্ষ আছে। মন্দিরটি আড়াইশ বছরের পুরোনো বলে প্রচলিত থাকলেও এর চাকচিক্য দেখে ধারণা করা হয় এটি উনবিংশ শতাব্দীতেই তৈরী করা হয়েছিল। গোবিন্দ মন্দিরের দক্ষিণ পাশে ছোট আরো একটি মন্দির রয়েছে। রাজবাড়ীর পশ্চিম পাশে দিঘি এবং তার পশ্চিম তীরেই রয়েছে কারুকার্য খঁচিত আকর্ষণীয় বড় আহ্নিক মন্দির। আহ্নিক মন্দিরের পাশে দক্ষিণমুখী অবস্থায় আরো একটি মন্দির দাঁড়িয়ে আছে যার নাম গোপাল মন্দির। সুপারী ও নারকেল গাছঘেরা ঐতিহাসিক স্থাপত্য শৈলীর প্রাচীন এই নিদর্শন গুলো দেখার জন্য প্রতিদিন দেশ বিদেশের শত শত পর্যটক ভিড় জমান রাজশাহীর পুঠিয়ায়।

সানবান্ধ্যা-বালিরটেক


কোন রিসোর্ট নয়, পুরো একটা দিন যদি ঢাকার কাছাকাছি বাংলার সুন্দর কোন নিভৃত গ্রামে কাটিয়ে দিতে চান, তবে চলে যান যান মানিকগঞ্জ এর সানবান্ধ্যা বালিরটেক এলাকায়। ছোটবেলায় বইয়ের পাতায় যে গ্রামের ছবি দেখেছেন, মিল খুজে পাবেন এ এলাকায় গেলে। এখানকার প্রকৃতি সতেজ, মানুষগুলো খাটি এবং জিনিষপত্র ভেজালমুক্ত। তাই যে কোন একটা ছুটির দিন চলে যান সানবান্ধ্যা-বালিরটেক।

কি করে যাবেন : গাবতলি থেকে প্রতি আধঘন্টা পরপর হরিরামপুরের 'শুকতারা' বাস ছাড়ে। এতে উঠে সানবান্ধ্যা ফেরিঘাট নেমে যাবেন। সময় লাগবে দেড় ঘন্টার মতো আর ভাড়া নেবে ৬০ টাকা।

যারা প্রাইভেট কার নিয়ে যাবেন তারা হেমায়েতুপুর থেকে হাতের বা দিকের রাস্তা ধরে যেতে থাকবেন সিংগাইর এর পর হাতে বা দিকে কিছুটা গেলেই সানবান্ধ্যা ফেরিঘাট।

কি করে ঘুরবেন : ফেরিঘাটে নেমেই চলে যাবেন কাছের কুমারবাড়িতে। দেখবেন কি অসাধারন দক্ষতায় একেকজন শিল্পী তৈরী করেন একেকটি মাটির পাত্র। এরপর ফেরী পার হয়ে বালির টেক চলে যান।

বালিরটেক নেমেই ফেরিঘাটের পাশে নিরিবিলি রেষ্টুরেন্ট এ খাবারের অর্ডার করে দিন। এদের দেশী মুরগির রান্নাটা অসাধারন। এরপর পাকা রাস্তা ধরে সুলতানপুরের দিকে যাত্রা করবেন। একটু পরেই কাচা রাস্তায় চলে আসবেন। এবার সুলতানপুর গ্রামটা ভালো করে দেখবেন। সুলতানপুর পার হয়ে যাবেন করিমকান্দি। এরপর বলাতলী হয়ে আবার ফিরে আসতে পারেন বালিরটেক ফেরিঘাটে। দুপুরের খাবার খেয়ে পাশে কালী গঙ্গা নদীতে গোছলটা সেরে নিতে পারেন। এরপর শেষ বিকেলে বাসে করে ঢাকার পথে যাত্র।

চিলাই নদী, বেলাই বিল গাজীপুর


ঢাকার খুব কাছে বেলাই নামে স্বচ্ছ জলের একটা বিল আছে কজনই বা জানেন সেটা? আর সাথে আছে চিলাই নামের সুন্দর একটা নদী। গাজিপুর সদরের পর ভাওয়াল রাজবাড়ির পার হয়ে ডানে টার্ন নিয়ে বেশ কিছুটা পথ গেলেই দেখা মিলবে এ বিল আর নদীর। কানাইয়া বাজারে নাস্তা করে একটা নৌকা ভাড়া করে সারাদিন আর চাইলে রাতেও জলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

যেভাবে যাবেন : গাজিপুর সদর পর্যন্ত যে কোন বাসে। সেখান নেমে টেম্পুতে কানাইয়া বাজার। ভাড়া নেবে ১০ টাকা করে। কানাইয়া বাজারে নেমে ব্রিজ পার হয়ে চেলাই নদীতে বাধা নৌকা ঠিক করে উঠে পরুন।

আর যারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাবেন তারা এভাবে যান, যাত্রা অনেক আরাম দায়ক হবে : টঙ্গী ফ্লাইওভার পার হয়ে সামনের দিকে যেতে থাকুন। পুবাইল কলেজ গেট থেকে বায়ের ছায়াঘেরা রাস্তায় ঢুকে যান। এখান থেকে মাইল চারেক দুরে (জল জঙ্গলের কাব্য পার হয়ে) গিয়ে ডানে টার্ন নিয়ে মিনিট দশেক গেলেই কানাইয়া বাজার। আর এ বাজারের ঠিক পাশেই চিলাই নদী আর বেলাই বিল। (সংগ্রহীত)

বরিশাল ব্যকওয়াটার এবং ফ্লোটিং মার্কেট ট্যুর


যারা কেরালার ব্যকওয়াটার দেখে আফসোস করেন বা থাইল্যান্ড এর ফ্লোটিং মার্কেট এ যাবার জন্য হা পিত্যস করছেন তারা একবার ঘুরে আসতে পারেন বরিশালের ব্যাকওয়ারটার ও স্বরুপকাঠির ফ্লোটিং পেয়ারা মার্কেট এ। সবুজ যে কতোটা সবুজ হতে পারে, প্রকৃতি যে কতোটা সুন্দর হতে পারে এখান গেলে জানবেন।

এবার একটি তথ্য বাংলাদেশে উতপাদিত মোট পেয়ারার প্রায় ৮০ ভাগই উতপাদিত হয় স্বরুপকাঠি জেলার বিভিন্ন গ্রামে।আটগর, কুরিয়ানা, ডুমুরিয়া, বেতরা, ডালুহার, সদর ইত্যাদি এলাকার প্রায় ২৪,০০০ একর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়। আর সে পেয়ারার বেচাকেনা নিয়ে স্বরুপকাঠির ভিমরুলীতে গড়ে উঠেছে বিশাল পেয়ারার ভাসমান বাজার।

কি করে যাবেন : একদম সোজা। ঢাকা থেকে প্রতিদিসৎন সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে হুলারহাট এর উদ্দেশ্যে ৩-৪ টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। ভাড়া ডেক-২০০ টাকা, কেবিন : ৯০০ টাকা। এতে উঠে নেছারাবাদ বা স্বরুপকাঠি নামবেন। তারপর একটা ট্রলার ভাড়া নেবেন ৫-৬ ঘন্টার জন্য। বলবেন নেছারাবাদ খাল হয়ে আটঘর, কুরিয়ানা ঘুরে ভিমরুলি বাজার যেতে। ভিমরুলি বাজারে গিয়ে দেখবেন খালের মধ্য অনেক পেয়ারার নৌকা। ইচ্ছে করতে কিনতে পারবেন পেয়ারা।

আরেকটি রুটেও যাওয়া যায়। সেটা হলো বরিশাল গিয়ে সেখান থৈকে অটোতে জগদিশপুর নামের একটা জায়গায় যেতে হবে। এরপর ট্রলারের করে একই নিয়মে ঘোরাঘুরি।

এরপর আবার খানিকটা ঘুরে কুরিয়ানা বাজারে লাঞ্চ করতে পারেন। কুরিয়ানা থেকে ভ্যানে করে রায়েরহাট আসলেই বরিশাল যাবার বাস পাবেন।পখে গুঠিয়া মনজিদ নেমে আবার অন্য বাসে বরিশাল গিয়ে ঢাকার লঞ্চ ধরতে পারবেন। (সংগ্রহীত)

ছুটিতে দেশ ভ্রমন


যারা সমুদ্র দেখতে পছন্দ করেন, তাদের সবার আগে যাওয়া উচিত কক্সবাজার। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত। এর পাশেই আছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। অথবা যেতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দেশ কুয়াকাটায়। ঢাকা থেকে রাতের বাসে কক্সবাজার গিয়ে সারাদিন থেকে আবার রাতে ফেরা যাবে ঢাকার উদ্দেশে। তবে সেন্টমার্টিন গেলে আরও একদিন সময় লাগবে। আর কুয়াকাটা গিয়ে এতো কম সময়ে ফেরা যাবে না। কারণ কুয়াকাটা যেতে হলে প্রথমে লঞ্চে বা বাসে যেতে হবে পটুয়াখালী। তারপর সেখান থেকে লোকাল বাসে কুয়াকাটা। তাই সেখানে যেতেই অনেক সময় লাগবে। অন্যদিকে পাহাড় যাদের কাছে টানে, তারা যেতে পারেন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি। পাহাড়, অরণ্য আর আদিবাসীদের বর্ণিল সাজে সজ্জিত এ জনপদ।

এছাড়া সমুদ্র কিংবা পাহাড় যারা এড়িয়ে চলেন, তারা যেতে পারেন বনবাদাড়ে। আর বন দেখতে হলে প্রথমে আসতে পারেন সুন্দরবনে। এটি বিশ্বের একক বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। ঢাকা থেকে প্রথমে খুলনা, তারপর সেখান থেকে বিভিন্ন ভ্রমণ পরিচালনাকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারেন সুন্দরবনে। এছাড়া একা একা দিনে দিনে সুন্দরবনের স্বাদ পেতে যেতে পারেন করমজল। মংলাঘাট থেকে ট্রলারে করমজল যেতে সময় লাগবে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা। এছাড়া বিভিন্ন ভ্রমণ পরিচালনাকারী সংস্থার মাধ্যমে ঢাকা থেকেও সরাসরি আপনি সুন্দরবনের উদ্দেশে আসতে পারেন। অনেকেই ভাবেন, দেশের যে কোনো স্থানেই একা একা যাওয়া গেলে সুন্দরবন কেন যাওয়া যাবে না। তাদের ধারণা ভুল। কারণ সুন্দরবনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে হলে আপনাকে কমপক্ষে তিন-চারদিন সময় নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে হবে। আর সুন্দরবনে কখনও যে কোনো নৌকা বা ট্রলার নিয়ে একা একা প্রবেশ করা যায় না। তাই সুন্দরবনের মূল অংশে আপনাকে যেতে হলে ভ্রমণ পরিচালনাকারীদের সাহায্য নিতে হবে। অথবা নিজেদের ভাড়া করা লঞ্চেই যেতে হবে। এছাড়া লঞ্চ ছাড়া বন বিভাগ আপনাকে সুন্দরবনে একা একা প্রবেশের অনুমতিও দেবে না।

বন, সমুদ্র বা পাহাড় দেখা যাদের আছে, তারা আসতে পারেন সবুজ চা বাগান দেখতে। সিলেট বিভাগজুড়ে রয়েছে অসংখ্য চা বাগান। তবে সবচেয়ে বড় ও বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। রাতের ট্রেনে বা বাসে রওনা হয়ে সকালে নেমে সারাদিন চা বাগান দেখে আবার রাতে ফেরা যাবে ঢাকায়। চাইলে শ্রীমঙ্গল দিনে দিনে গিয়েও দেখে আসা যাবে। দেশের বিখ্যাত হাওরগুলোও রয়েছে এ চায়ের দেশে। হাকালুকি, টাঙ্গুয়া, পাশুয়া, বাইক্কাসহ বিভিন্ন হাওরও দেখে আসতে পারেন সিলেট অঞ্চলে গেলে। এছাড়া সিলেট অঞ্চলজুড়েও রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য অরণ্য। যেখানে ঘুরে পেতে পারেন বাড়তি আনন্দ। আর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বা পুরাকীর্তি দেখার জন্য আছে খুলনার ষাটগম্বুজ মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ, দিনাজপুরের কান্তিজিউর মন্দির, কুমিল্লার ময়নামতি, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, বগুড়ার মহাস্থানগড়, ফরিদপুরের মথুরা দেউর, রাজশাহীর সোনামসজিদ, তোহাখানা, পুঠিয়া রাজবাড়ী, নাটোরের রাজবাড়ী, জমিদারবাড়ী, গণভবনসহ দেশের বিভিন্ন পুরাকীর্তির নিদর্শন।