Tuesday, November 3, 2015

সিলেটের বিছনাকান্দি যেন সম্মোহনী সৌন্দর্য্য



পাহাড়ের বুকে গাঢ় সবুজের আস্তরণ। পাহাড়ের বুক চিড়ে চলেছে শীতল স্বচ্ছ জলরাশি। পাথর ছড়ানো সর্বত্র। আকাশে নীলের ছায়া। এই বিবরণ তো মিলে যাচ্ছে সিলেটের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দির সঙ্গে!

কিন্তু না, বিছনাকান্দির বর্ণনা নয় এটা! এ হচ্ছে উতমাছড়ার বর্ণনা। যে স্থানকে সিলেটের নতুন 'বিছনাকান্দি' বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি হচ্ছে উতমাছড়া। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে যার অবস্থান।

রূপ-লাবণ্যে যৌবনা উতমাছড়া পরতে পরতে সাজিয়ে রেখেছে সম্মোহনী সৌন্দর্য্য। যান্ত্রিক কোলাহল থেকে মুক্ত নির্জন অরণ্যের সাহচার্য পেতে উতমাছড়ার বিকল্প নেই। আছে সবুজের সমারোহ, দিগন্ত বিস্তৃত সাদা মেঘের খেলা, পাথর ছড়ানো চারপাশ, দুধসাদা জলরাশি, পাখিদের কলতান। মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই!
ঘুরে অাসুন 'বিছনাকান্দি' থেকে
উতমাছড়ার সৌন্দর্য্য সবচেয়ে বেশি ধরা দেয় বর্ষাকালে। অন্যান্য মৌসুমে উতমাছড়াকে মরুভূমির বুকে গজিয়ে ওঠা উদ্যানের মতো মনে হয়।

যাওয়ার পথ: সিলেট মহানগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সরাসরি সিএনজি অটোরিকশাযোগে যেতে হবে ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী দয়ারবাজারে। সড়কের অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় এ পরিমাণ সড়ক পাড়ি দিতে গুণতে হবে জনপ্রতি ১৫০-১৮০ টাকা করে।

দয়ারবাজার থেকে আবার সিএনজি অটোরিকশাযোগে আট কিলোমিটার দূরবর্তী চড়ারবাজারে যেতে হয়। এজন্য জনপ্রতি ভাড়া ২৫-৩০ টাকা পড়বে। চড়ারবাজার থেকে ১৫ মিনিটের মতো হাঁটলেই পেয়ে যাবেন উতমাছড়ার দেখা।

হরিণবাড়িয়া 'ইকো ট্যুরিজম পার্ক



 প্রকৃতির সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকরা নিজের শরীরে একটু প্রশান্তি অানতে ঘুরে বেড়ান এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সেই মানুষদের জন্যই অপেক্ষা করে অাছে বরগুনার হরিণবাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক।

ম্যানগ্রোভ বন, পাখির কলরব, ঝাউবন আর সমুদ্রের গর্জন সবমিলে প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি এই পার্ক। পর্যটকরা এখানে এলে পাবেন সুন্দরবন দেখার আনন্দও।

বরগুনা জেলা সদর থেকে নৌ অথবা সড়ক পথে এক ঘণ্টার পথ দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হরিণবাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক। দূরে বঙ্গোপসাগর, সঙ্গে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ অঞ্চল যেন হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকে প্রতিনিয়ত।

কাঠের তৈরি সাড়ে তিন কিলোমিটার সেতু আর খালের ওপর বেইলি ব্রীজ পার্কের সৌন্দর্যকে বাড়িয়েছে আরো বহুগুণ। ইচ্ছে হলে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারে বসেও উপভোগ করা যাবে প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন।

পার্কটিকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে পাথরঘাটা উপজেলার হরিণঘাটা এলাকার মানুষের মনে। পর্যটকদের আনাগোনায় বেড়েছে তাদের উপার্জন।ঘুরে অাসুন হরিণবাড়িয়া 'ইকো ট্যুরিজম পার্ক' থেকে

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে কর্মসংস্থানের জন্য এলাকার বাইরে যাওয়ার দরকার হলেও এখন পর্যটক আসাতে এলাকায় থেকেই আয়-উপার্জন করছেন তারা। হরিণবাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক থেকে প্রচুর রাজস্ব আসতে পারে বলে মনে করছে বনবিভাগও।

পটুয়াখালি বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার সোলায়মান হাওলাদার জানান, এখানে আসলে ভ্রমণ পিয়াসীরা বন এবং সাগরের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেন। বইয়ে পড়া বর্ণনার বাস্তব উদাহরণও পাবেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইকো পার্কটিকে দেশে বিদেশে আরো জনপ্রিয় করে তোলার দাবি রয়েছে স্থানীয়দের।

Monday, October 26, 2015

সুন্দরবন ভ্রমণ

সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়ার মৌওসুম শুরু হয়েছে, চলবে যা এপ্রিল পর্যন্ত জমজমাট আমেজে, যদিও সারাবছরই সেখানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সুন্দরবনে ভ্রমণ অন্যকোনো পর্যটনের চেয়ে ভিন্ন ও  অনন্য। বনবিভাগের অনুমতিসাপেক্ষে এখানে ভ্রমণে যেতে হয় তাদের আদেশ-নিষেধ মেনে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

সুন্দরবনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। অভয়ারণ্যের বাইরেও বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধান এবং বিকাশমান পর্যটন শিল্পের অতিরিক্ত চাপে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের যাতে ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করতে সুন্দরবন ভ্রমণ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বনবিভাগ। গত বছর ডিসেম্বর মাসে প্রণীত এ ভ্রমণ নীতিমালার উদ্দেশ্য, মূখ্য বিষয় এবং পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও বনবিভাগের দায়িত্ব এখানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

নীতিমালায় সুন্দরবন ভ্রমণের নির্ধারিত ও আটটি রুট হচ্ছেঃ খুলনা ও বাগেরহাট জেলার মংলা-করমজল-হারবাড়ীয়া-মংলা- (১ দিনের জন্য), মংলা-হারবাড়ীয়া-হিরণপয়েন্ট-দুবলা-মংলা (১-২ দিনের জন্য), মংলা-ঢাংমারী-সুপতি-কচিখালী-কটকা-মংলা (২-৩ দিনের জন্য) ও মংলা-ঢাংমারী-সুপতি-কচিখালী-কটকা-দুবলা-হিরণ পয়েন্ট (নীলকমল)-হারবাড়ীয়া-মংলা (৩-৪ দিনের জন্য), পিরোজপুর জেলার সুপতি-কচিখালী-কটকা-সুপতি (২-৩ দিন) ও সুপতি-কচিখালী-কটকা-দুবলা-হিরণপয়েন্ট (নীলকমল)-সুপতি এবং সাতক্ষীরা জেলার মুন্সীগঞ্জ-দোবেকী-কলাগাছিয়া- বুড়িগোয়ালিনী/মুন্সীগঞ্জ (১ দিন) ও বুড়িগোয়ালিনী-দোবেকী-কাগাদোবেকী-হিরণপয়েন্ট-বুড়িগোয়ালিনী/মুন্সীগঞ্জ (১-২ দিন)।

অভয়ারণ্য ব্যতীত সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমণ ফি ও অন্যান্য ফি হচ্ছেঃ প্রতিজন প্রতিদিন দেশি-৭০/-, বিদেশি-১০০০/- ১২ বছরের নিচে শিশু-১৫/-, করমজল/ সমমান (কলাগাছিয়া)– দেশি-২০/-, বিদেশি-৩০০/-  ১২ বছরের নিচের শিশু (দেশি) - ১০/-, ছাত্র/ছাত্রী-দেশি-২০/-, গবেষক-দেশি-২০/-বিদেশি-৫০০/-, লঞ্চ ক্রু-৭০/-,গাইড-৫০০/-, নিরাপত্তা গার্ড-৩০০/- ভিডিও ক্যামেরা দেশি পর্যটক-২০০/-, বিদেশি-৩০০/-ও তথ্য কেন্দ্রে প্রবেশ ফি-১০/-। অভয়ারণ্য এলাকা-প্রতিজন-প্রতিদিন দেশি-১৫০/-, দেশি ছাত্র/ছাত্রী-৩০/- বিদেশি -১৫০০/- ও  ১২ বছরের নিচের শিশু ১০/-। সুন্দরবন ভ্রমণে খুলনা ও বাগেরহাটে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম দুটি  বিভগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কমপক্ষে তিনদিন আগে অনুমতি নিতে হয়। যাদের  টেলিফোন নং খুলনা-০৪১-৭২০৬৬৫ ও মোবাইল-০১৭১১৫৮১৪২৯ এবং বাগেরহাট-০৪৬৮-৬৩১৯৭ ও মোবাইল -০১৭১০৯৩৪৩৬৩।  ভ্রমণ কর দিয়ে যে সব স্টেশন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের তালিমপুর, কাশিয়াবাদ, বানিয়াখালী, নলিয়ান, কালাবগী ও সুতারখালী এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী, কদমতলা বুড়িগোয়ালিনী ও কোবাদক। পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী, চাঁদপাই, জিউধরা ও ধানসাগর এবং শরণখোলা রেঞ্জের শরণখোলা, বগী ও সুপতি। সুন্দরবনের ভেতরে অবস্থিত বিশ্রামাগারের প্রতিদিনের ভাড়া কটকা-প্রতি কক্ষ- পর্যটক দেশি ২০০০/- ও বিদেশি-৫০০০/-, সম্পূণর্ন-দেশি-৪০০০/- বিদেশি-১০,০০০/-, কচিখালী প্রতিকক্ষ-দেশি-৩০০০/- ও বিদেশি-৫০০০/-, সম্পূর্ণ-দেশি-১০,০০০/- ও বিদেশি-১৫০০০/- এবং নীলকমল (হিরণ পয়েন্ট)- প্রতিকক্ষ-দেশি-৩০০০/- ও বিদেশি-৫০০০/-, সম্পূর্ণ-দেশি-১২০০০/- ও বিদেশি-২০,০০০/। যানবাহন ফি যেমন হেলিকপ্টার, সিপ্লেন, লঞ্চ, ট্রলার, স্পিডবোট, জলী বোট (ট্যুরিস্টবোট) ইত্যাদি আকারভেদে বিভিন্ন হারের।

Sunday, April 12, 2015

হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার


হযরত শাহজালাল(র:) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি। সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে। সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বুরহান উদ্দিনের ওপর রাজা গৌর গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল(র:) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ কারণে সিলেটকে  ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। কেউ কেউ সিলেটকে পূণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন।
আরবের মাটি ও সিলেটের মাটির মিল

কথিত আছে, প্রাচ্য দেশে আসার পূর্বে শাহজালাল(র:) এর মামা মুর্শিদ সৈয়দ আহমদ কবীর (রঃ) তাকে এক মুঠো মাটি দিয়ে বলেন, ‘স্বাদে বর্ণে গন্ধে এই মাটির মতো মাটি যেখানে পাবে সেখানে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করবে।’ 

হযরত শাহজালাল(র:) বিশিষ্ট শিষ্য শেখ আলীকে এই মাটির দায়িত্বে নিয়োগ করেন এবং নির্দেশ দেন যে, যাত্রা পথে বিভিন্ন জনপদের মাটির সাথে যেন এই জনপদের মাটির তুলনা করে তিনি দেখেন। পরে এই শিষ্যের উপাধি হয় চাষণী পীর। সিলেট শহরের গোয়াইপাড়ায় তার মাজার বিদ্যমান।

সিলেটের মাটির সাথে আরবের মাটির মিল পাওয়ায় হযরত শাহজালাল(র:) সিলেটে বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। সিলেটে তেল ও গ্যাস পাওয়ায় আরবের মাটি ও সিলেটের  মাটির মিল প্রমাণিত হয়েছে।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

সিলেট রেল স্টেশন অথবা কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এ নেমে রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশাযোগে মাজারে যাওয়া যায়। রিকশা ভাড়া ২০-২৫ টাকা, সিএনজি ভাড়া ৮০-১০০ টাকা।সুরমা নদী পার হয়ে মূল শহরে এসে মাজার এ পৌছাতে হয়। মাজার গেট রোড এ অনেকগুলো আবাসিক হোটেল রয়েছে। 
তথ্যসূত্র : জেলা তথ্যবাতায়ন

মালনীছড়া চা বাগান


চা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়। সকালে এক কাপ গরম চা না পেলে বাঙালী সমাজের যেন একদম চলে না। বাংলাদেশের যে কয়টি অঞ্চলে চা বাগান পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে সিলেট অন্যতম। সিলেটের চায়ের রঙ, স্বাদ এবং সুবাস অতুলনীয়। উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান সিলেট শহরে অবস্থিত। নাম মালনীছড়া। ১৮৪৯ সালে এই চা বাগান প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে বেসরকারী তত্ত্ত্বাবধানে চা বাগান পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৫০০ একর জায়গার উপর এই চা বাগান অবস্থিত।চা বাগানের পাশাপাশি বর্তমানে এখানে কমলা ও রাবারের চাষ করা হয়।

মালনীছড়া চা বাগান ছাড়াও সিলেটে  লাক্ষাতুড়া চা বাগান, আলী বাহার চা বাগান, খাদিম, আহমদ টি স্টেট, লালাখাল টি স্টেট উল্লেখযোগ্য।

অবস্থান: মালনীছড়া এবং লাক্ষাতুড়া চা বাগান দুইটিই সিলেট শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত। শহরের কেন্দ্রস্থল জিন্দাবাজার পয়েন্ট হতে গাড়ীতে মাত্র ১৫ মিনিটের পথ।

কি কি দেখবেন: পাহাড়ের গায়ে চা বাগানের দৃশ্য, ছায়া বৃক্ষ, চা শ্রমিকদের আবাসস্থল, কমলার বাগান, রাবার বাগান, চা তৈরীর প্রক্রিয়া।

কোথায় অবস্থান করবেন: সাধারনত চা বাগানে থাকার তেমন কোন সুব্যবস্থা নাই। আপনাকে সিলেট শহরেই থাকতে হবে।

কিভাবে যাওয়া যায়: 

সিলেট শহর থেকে রিকশাযোগে অথবা অটোরিকশা বা গাড়িতে বিমানবন্দর রোডে চাবাগানটি পাওয়া যাবে। গাড়িতে যেতে আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে ১০ মিনিট এর পথ।রিকশাযোগে যেতে আধঘন্টা লাগবে।তথ্যসূত্র : জেলা তথ্যবাতায়ন 
   

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী



রাজশাহী ও ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে সুপারী আর নারিকেল গাছে ঘেরা সুবিশাল এলাকায় মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে মন্দিরের এক শহর যার নাম পুঠিয়া। পুঠিয়া রাজবাড়ীর বিশাল চত্বরকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন স্থাপনা যা সহজেই আপনার নজর কাড়তে সক্ষম হবে। প্রাচীন এই স্থাপনা গুলির মধ্যে রয়েছে মন্দির. রাজবাড়ী, রাজবাড়ীকে চার দিক থেকে ঘিরে রাখা পুকুর-দিঘি সহ নানান স্থাপনা।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক থেকে রিক্সা অথবা ভ্যান ধরে কিছুটা পথ সামনে গেলেই বিশাল একটা চুঁড়া জানান দিবে মন্দিরের অবস্থান। রাজবাড়ীর প্রবেশ পথে পুকুরের পাড়ে নিশ্চুপ দাড়িয়ে থাকা এ মন্দিরটির নাম শিব মন্দির। মহারাণী ভুবন মোহনী দেবী ১৮২৩ সালে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরিসংখ্যান মতে এটিই এশিয়ার সবচেয়ে বড় শিব মন্দির। সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরের দোতলায় উঠলেই দেখা যাবে এর চার পাশের বারান্দা এবং একটি মাত্র কক্ষ যা দুই স্তর বিশিষ্ঠ বারান্দাকে ঘিরে রেখেছে। মন্দিরের মূল কক্ষের অভ্যন্তরে রয়েছে কষ্ঠি পাথরের বিশাল এক শিব লিঙ্গ। সমগ্র মন্দিরের দেয়ালে পৌরাণিক কাহিনী চিত্র খচিত আছে। শিব মন্দিরের কোল ঘেঁষে লাগানো পূর্ব পাশে গোল গুম্বুজ আকৃতির আরেকটি ছোট মন্দির আছে। শিব মন্দির পেরিয়ে দক্ষিণ দিকে গেলেই চোখে পড়বে চার তলা বিশিষ্ঠ আরেকট্ িমন্দির যার নাম দোল মন্দির। চার পাশে প্রায় ১০০০ টি দরজা সম্বলিত এই মন্দিরটি স্থানীয় লোকজনের কাছে হাজার দুয়ারী ঘর নামে পরিচিত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে রাণী হেমন্ত কুমারী দেবী এ মন্দিরটি নির্মাণ করেন। দোল মন্দিরের সামনে ঘাসে ঢাকা বিশাল মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে দাড়িয়ে আছে পুঠিয়ার ঐতিহাসিক রাজবাড়ী।

রাণী হেমন্ত কুমারী দেবী তাঁর শাশুড়ি মহারাণী শরৎসুন্দরী দেবীর সম্মানার্থে ১৮৯৫ সালে নির্মাণ করেন বিশাল আকৃতির বিখ্যাত এই রাজবাড়ী। পুঠিয়ার এই রাজবাড়ীটি বর্তমানে লস্করপুর মহাবিদ্যা নিকেতনের একাডেমিক ভবন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজবাড়ীর পূর্ব পাশে রাজরাণীর গোসল করার জন্য পুকুরের কোল ঘেঁসে তৈরী করা হয়েছিল সান বাঁধানো রাণী ঘাট যার অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান। পুঠিয়া রাজবাড়ীর ভেতরে পোড়ামাটির অলঙ্করণে সমৃদ্ধ একটি মন্দির আছে যার নাম গোবিন্দ মন্দির। বর্গাকারে নির্মিত এই মন্দিরটির চার পাশে চারটি বর্গাকার কক্ষ আছে। মন্দিরটি আড়াইশ বছরের পুরোনো বলে প্রচলিত থাকলেও এর চাকচিক্য দেখে ধারণা করা হয় এটি উনবিংশ শতাব্দীতেই তৈরী করা হয়েছিল। গোবিন্দ মন্দিরের দক্ষিণ পাশে ছোট আরো একটি মন্দির রয়েছে। রাজবাড়ীর পশ্চিম পাশে দিঘি এবং তার পশ্চিম তীরেই রয়েছে কারুকার্য খঁচিত আকর্ষণীয় বড় আহ্নিক মন্দির। আহ্নিক মন্দিরের পাশে দক্ষিণমুখী অবস্থায় আরো একটি মন্দির দাঁড়িয়ে আছে যার নাম গোপাল মন্দির। সুপারী ও নারকেল গাছঘেরা ঐতিহাসিক স্থাপত্য শৈলীর প্রাচীন এই নিদর্শন গুলো দেখার জন্য প্রতিদিন দেশ বিদেশের শত শত পর্যটক ভিড় জমান রাজশাহীর পুঠিয়ায়।

সানবান্ধ্যা-বালিরটেক


কোন রিসোর্ট নয়, পুরো একটা দিন যদি ঢাকার কাছাকাছি বাংলার সুন্দর কোন নিভৃত গ্রামে কাটিয়ে দিতে চান, তবে চলে যান যান মানিকগঞ্জ এর সানবান্ধ্যা বালিরটেক এলাকায়। ছোটবেলায় বইয়ের পাতায় যে গ্রামের ছবি দেখেছেন, মিল খুজে পাবেন এ এলাকায় গেলে। এখানকার প্রকৃতি সতেজ, মানুষগুলো খাটি এবং জিনিষপত্র ভেজালমুক্ত। তাই যে কোন একটা ছুটির দিন চলে যান সানবান্ধ্যা-বালিরটেক।

কি করে যাবেন : গাবতলি থেকে প্রতি আধঘন্টা পরপর হরিরামপুরের 'শুকতারা' বাস ছাড়ে। এতে উঠে সানবান্ধ্যা ফেরিঘাট নেমে যাবেন। সময় লাগবে দেড় ঘন্টার মতো আর ভাড়া নেবে ৬০ টাকা।

যারা প্রাইভেট কার নিয়ে যাবেন তারা হেমায়েতুপুর থেকে হাতের বা দিকের রাস্তা ধরে যেতে থাকবেন সিংগাইর এর পর হাতে বা দিকে কিছুটা গেলেই সানবান্ধ্যা ফেরিঘাট।

কি করে ঘুরবেন : ফেরিঘাটে নেমেই চলে যাবেন কাছের কুমারবাড়িতে। দেখবেন কি অসাধারন দক্ষতায় একেকজন শিল্পী তৈরী করেন একেকটি মাটির পাত্র। এরপর ফেরী পার হয়ে বালির টেক চলে যান।

বালিরটেক নেমেই ফেরিঘাটের পাশে নিরিবিলি রেষ্টুরেন্ট এ খাবারের অর্ডার করে দিন। এদের দেশী মুরগির রান্নাটা অসাধারন। এরপর পাকা রাস্তা ধরে সুলতানপুরের দিকে যাত্রা করবেন। একটু পরেই কাচা রাস্তায় চলে আসবেন। এবার সুলতানপুর গ্রামটা ভালো করে দেখবেন। সুলতানপুর পার হয়ে যাবেন করিমকান্দি। এরপর বলাতলী হয়ে আবার ফিরে আসতে পারেন বালিরটেক ফেরিঘাটে। দুপুরের খাবার খেয়ে পাশে কালী গঙ্গা নদীতে গোছলটা সেরে নিতে পারেন। এরপর শেষ বিকেলে বাসে করে ঢাকার পথে যাত্র।