Saturday, April 11, 2015

স্বপ্ন নয়, অথচ স্বপ্নের মতো সুন্দর নিরিবিলি এক নয়নাভিরাম মোহন-মায়াবী স্বপ্নময় ভুবন স্বপ্নপুরী


বিনোদনের অন্যতম স্থান উত্তরাঞ্চলের  স্বপ্নপুরী:

দিনাজপুর শহর থেকে ৫২ কিমি দক্ষিণে নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জে স্বপ্নপুরী অবস্থিত। ১৯৮৯ সালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাফগঞ্জে এক মৃত জলাশয়কে পিকনিক স্পটে রুপান্তরিত করে তার নাম দেওয়া হয় স্বপ্নপুরী। মোট ৪০০ বিঘা জমির উপরে নির্মাণ করা হয়েছে স্বপ্নপুরীর স্বপ্নের জগৎ। ঢাকা থেকে স্বপ্নপুরীর দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার ও দিনাজপুর থেকে মাত্র ৫২ কিলোমিটার। ১৯৯০ সাল থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়। ইচ্ছে হলে আপনি ইট-পাথরের যান্ত্রিক কর্মব্যস্ততা থেকে ক্লান্ত, বিপর্যস্ত দেহ-মনকে এই পিকনিক স্পষ্ট স্বপ্নপুরীতে ক্লান্তি জুড়াতে, আনন্দ-উল্লাস করে বিসর্জন দিতে পারেন মানসিক বিপর্যস্ততাকে। জানতে পারেন জীব-জগতের, উপলব্ধি করতে পারেন আপনজনদের। আত্মপলব্ধির মধ্য দিয়ে বিকাশ ঘটাতে পারেন মানবতার, অবারিত আত্মিক উন্নয়নের দ্বার সভ্যতাকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে পারেন। দেশ-বিদেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এই স্বপ্নপুরী দর্শনে মুগ্ধ হয়েছেন। 

সুবিশাল এলাকা, তুলনাহীন প্রাকৃতিক এবং নৈসর্গিক পরিবেশ। সমগ্র এলাকা জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, লিলি, রজনীগন্ধা, গ্লোবাল, কসমস, গাদা-সূর্যমুখী ইত্যাদি ফুলসহ বিভিন্ন প্রকার ঝাউগাছ, ইপিলইপিল, ক্যাকটাস, ওইপেং, ক্রিসমাসট্রি, ঘনসবুজ ঘাসে ঘেরা বাগানের গাছের ডালে বসেছে হাজারো পাখির মেলা, যা প্রকৃতি প্রেমিক সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটক ও পরিব্রাজকদের মনোরঞ্জন এবং বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।

শিক্ষামূলক ভ্রমণ স্বপ্নপুরী পর্যটন কেন্দ্র ছাত্রছাত্রী ও আনন্দ পিপাসুদের জন্য ভিন্ন মাত্রায় সজ্জিত। যার প্রমাণ স্বপ্নপুরীতে রয়েছে শিশু পার্ক, জীবন্ত এবং কৃত্রিম চিড়িয়াখানা। স্বপ্নপুরীর প্রবেশ দ্বারে দণ্ডায়মান বিশাল আকৃতির দুটি পরীর প্রতিকৃতি যেন পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সদা প্রস্তুত।

ঝাউবীথি আর পাম বৃক্ষের মাঝে স্থাপিত মিলেনিয়াম ২০০০-এর প্রতীক। পর্যটকদের নামাজ পড়ার মসজিদ এবং কারুকার্যময় অজুখানা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ও জাতীয় কবি নজরুলের ভাস্কর্য। চোখে স্বাপ্নিক বিস্ময়তা আর অন্তরে মুগ্ধতা নিয়ে স্বপ্নপুরীর লেকে স্পিড বোটে জলবিহারে মেতে ওঠা। লেকের ওপরে তৈরি করা হয়েছে কেবল কার। পর্যটকদের গোসল করার জন্য সুসজ্জিত শাপলা ঘাট। সুবিশাল স্বপ্নপুরীর স্থানে স্থানে রয়েছে চমৎকার চমৎকার বিশ্রাম ছাউনি। অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত স্বপ্নপুরী বাগানের ঘনপাতা, লতাগুল্ম উথিত ঢেউ বেষ্টনীর মাঝে বাগান বিলাসের সমারোহ। এ যেন নিপুণ হাতের পরশে বাগ-বাগিচার সৌন্দর্যে পেয়েছে নতুনরূপ। এসব বাগান মন-মননকে করে তোলে আকাশচারী ও স্বপ্নময়। 

স্বপ্নপুরীর রাস্তাগুলো একেকটি এক অভিন্ন। একটি রাস্তার দুই পাশে উদ্বাহু হংসমিথুনের দল। আরেকটি রাস্তার দু’পাশে মাছ আকৃতির ফুলের টপ দিয়ে সাজানো হয়েছে। কৃত্রিম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে চোখ ধাঁধানো রাস্তা। জীবন্ত চিড়িয়াখানায় প্রবেশের প্রধান ফটকটি বাংলার ঐতিহ্য, বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখাকৃতির এ ফটক পর্যটকদের শিহরিত করে ও রোমাঞ্চিত করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের কলা গাছের অনুুরূপ অতিথি বৃক্ষ পান্থপথ। দুর্লভ এ বৃক্ষ স্বপ্নপুরীর জীবন্ত চিড়িয়াখানায় সংযোজন করেছে নতুন সৌন্দর্য মাত্রা। সব মিলিয়ে বলা যায় কোন পর্যটক যদি একবার স্বপ্নপুরীতে যান তাহলে সত্যি স্বপ্নের মাঝে হারিয়ে যাবেন। 

স্বপ্নপুরী হচ্ছে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র। এখানে রয়েছেদেশী-বিদেশী বিভিন্ন পশু-পাখির অবিকল ভাষ্কর্য, কৃত্রিম পাহাড়, কৃত্রিম ঝর্ণা এবং ইট-সিমেন্টে নির্মিত বাংলাদেশের এক সুবিশাল মানচিত্রের সমন্বয়ে তৈরী একটি কৃত্রিমচিড়িয়াখানা, জীবন্ত পশুপাখীদের চিড়িয়াখানা,শিশুদের জন্য পার্ক, দোলনা, বায়োস্কোপ ইত্যাদি।

সারিসারি সবুজ দেবদারু গাছের মনোলোভা সৌন্দর্য আর বিস্তীর্ণ ঝিলের তীরে ফুটন্তগোলাপ বাগানের মাঝখানে স্থাপিত অপরূপ সুন্দর “নিশিপদ্ম”। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য আরো রয়েছে বিশাল দিঘিতে স্পিডবোট ও ময়ূরপঙ্খীনাও, দুইঘোড়া চালিত টমটম, হরেক রকম সুগন্ধ ও সৌন্দর্য এবং স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা বিশিষ্ট কয়েকটি ফুল বাগান এবং বিশ্রামের জন্য আকর্ষণীয় রেষ্টহাউস ও ডাকবাংলোসহ বিনোদনের আরো অনেক উপকরণ।

যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল থেকে ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে দিনাজপুরের গাড়ীতে করে দিনাজপুরে সেখান থেকে বাস যোগে স্বপ্নপুরী যাওয়া যায়।

স্বপ্নপুরীর পাশেই থাকার জন্য আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়া দিনাজপুর জেলা ডাকবাংলো ও অন্যান্য সরকারী ভবনে রাত্রিযাপন করা যাবে। এক্ষেত্রে জেলা ডাকবাংলোর বা অন্যান্য আবাসিক হোটেলের কর্মকর্তাদের আগেই সব কিছু জানিয়ে রাখতে হবে।

প্রবেশমূল্য :
বাস ও মিনিবাসের মূল্য - ৪০০ টাকা
মাইক্রোবাসের মূল্য - ৩০০ টাকা
জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য - ২০ টাকা


স্বপ্নপুরীর বাংলো ভাড়া: নীলপরী ৩০০ টাকা (প্রতি ডবল রুম), রজনীগন্ধা ৪০০ (প্রতি ডবল রুম), নিশি পদ্ম ১৫০০ টাকা (তিন রুমসহ বাংলো), চাঁদনী ৫০০ টাকা (প্রতি ডবল রুম), সন্ধ্যা তারা ১০০/১৩০০ টাকা (প্রতি ডবল নন এসি ও এসি রুম)

ঢাকা থেকে বুকিং ব্যবস্থা ঢাকা থেকেও স্বপ্নপুরীর মোটেল বা বাংলো বুকিংয়ের সুবিধা আছে। ঠিকানা : হোটেলের সফিনা, ১৫২ হাজী ওসমান গনি রোড, আলুবাজার ঢাকা। ফোন : ৯৫৫৪৬৩০-৯৫৬২১৩০।
স্বপ্নপুরীতে রয়েছে অল্প দামে খাবারের ব্যবস্থা : ভাত, সবজি, ডি, ডাল ১৫ টাকা, ভাত, সবজি, মাছ, ডাল ২০ টাকা ও ভাত, সবজি মুরগি, ডাল ৩০ টাকা।

এছাড়াও স্বপ্নপুরীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যটন সুবিধা দিতে একটি আধুনিক হোটেল, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে স্বতন্ত্র স্পট, পাখির রাজ্য, বেলকার, রোপকার, মানবিক চৈতন্যে ভাস্কর্য শিল্প ইত্যাদি নির্মাণের পরিকল্পনা মোতাবেক, যার নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। স্বপ্নপুরী ভ্রমণে সব ভ্রমণ পিপাসুকে আমন্ত্রণ। 


0 comments:

Post a Comment