Tuesday, November 3, 2015

সিলেটের বিছনাকান্দি যেন সম্মোহনী সৌন্দর্য্য



পাহাড়ের বুকে গাঢ় সবুজের আস্তরণ। পাহাড়ের বুক চিড়ে চলেছে শীতল স্বচ্ছ জলরাশি। পাথর ছড়ানো সর্বত্র। আকাশে নীলের ছায়া। এই বিবরণ তো মিলে যাচ্ছে সিলেটের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দির সঙ্গে!

কিন্তু না, বিছনাকান্দির বর্ণনা নয় এটা! এ হচ্ছে উতমাছড়ার বর্ণনা। যে স্থানকে সিলেটের নতুন 'বিছনাকান্দি' বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি হচ্ছে উতমাছড়া। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে যার অবস্থান।

রূপ-লাবণ্যে যৌবনা উতমাছড়া পরতে পরতে সাজিয়ে রেখেছে সম্মোহনী সৌন্দর্য্য। যান্ত্রিক কোলাহল থেকে মুক্ত নির্জন অরণ্যের সাহচার্য পেতে উতমাছড়ার বিকল্প নেই। আছে সবুজের সমারোহ, দিগন্ত বিস্তৃত সাদা মেঘের খেলা, পাথর ছড়ানো চারপাশ, দুধসাদা জলরাশি, পাখিদের কলতান। মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই!
ঘুরে অাসুন 'বিছনাকান্দি' থেকে
উতমাছড়ার সৌন্দর্য্য সবচেয়ে বেশি ধরা দেয় বর্ষাকালে। অন্যান্য মৌসুমে উতমাছড়াকে মরুভূমির বুকে গজিয়ে ওঠা উদ্যানের মতো মনে হয়।

যাওয়ার পথ: সিলেট মহানগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সরাসরি সিএনজি অটোরিকশাযোগে যেতে হবে ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী দয়ারবাজারে। সড়কের অবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় এ পরিমাণ সড়ক পাড়ি দিতে গুণতে হবে জনপ্রতি ১৫০-১৮০ টাকা করে।

দয়ারবাজার থেকে আবার সিএনজি অটোরিকশাযোগে আট কিলোমিটার দূরবর্তী চড়ারবাজারে যেতে হয়। এজন্য জনপ্রতি ভাড়া ২৫-৩০ টাকা পড়বে। চড়ারবাজার থেকে ১৫ মিনিটের মতো হাঁটলেই পেয়ে যাবেন উতমাছড়ার দেখা।

হরিণবাড়িয়া 'ইকো ট্যুরিজম পার্ক



 প্রকৃতির সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকরা নিজের শরীরে একটু প্রশান্তি অানতে ঘুরে বেড়ান এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সেই মানুষদের জন্যই অপেক্ষা করে অাছে বরগুনার হরিণবাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক।

ম্যানগ্রোভ বন, পাখির কলরব, ঝাউবন আর সমুদ্রের গর্জন সবমিলে প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি এই পার্ক। পর্যটকরা এখানে এলে পাবেন সুন্দরবন দেখার আনন্দও।

বরগুনা জেলা সদর থেকে নৌ অথবা সড়ক পথে এক ঘণ্টার পথ দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হরিণবাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক। দূরে বঙ্গোপসাগর, সঙ্গে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ অঞ্চল যেন হাতছানি দিয়ে কাছে ডাকে প্রতিনিয়ত।

কাঠের তৈরি সাড়ে তিন কিলোমিটার সেতু আর খালের ওপর বেইলি ব্রীজ পার্কের সৌন্দর্যকে বাড়িয়েছে আরো বহুগুণ। ইচ্ছে হলে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারে বসেও উপভোগ করা যাবে প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন।

পার্কটিকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে পাথরঘাটা উপজেলার হরিণঘাটা এলাকার মানুষের মনে। পর্যটকদের আনাগোনায় বেড়েছে তাদের উপার্জন।ঘুরে অাসুন হরিণবাড়িয়া 'ইকো ট্যুরিজম পার্ক' থেকে

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে কর্মসংস্থানের জন্য এলাকার বাইরে যাওয়ার দরকার হলেও এখন পর্যটক আসাতে এলাকায় থেকেই আয়-উপার্জন করছেন তারা। হরিণবাড়িয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক থেকে প্রচুর রাজস্ব আসতে পারে বলে মনে করছে বনবিভাগও।

পটুয়াখালি বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার সোলায়মান হাওলাদার জানান, এখানে আসলে ভ্রমণ পিয়াসীরা বন এবং সাগরের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেন। বইয়ে পড়া বর্ণনার বাস্তব উদাহরণও পাবেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইকো পার্কটিকে দেশে বিদেশে আরো জনপ্রিয় করে তোলার দাবি রয়েছে স্থানীয়দের।